কুরআনের নির্দেশনা
রমজান মাসে দাম্পত্য সম্পর্ক সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বলেন:
“রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা হালাল করা হয়েছে… তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না সুবহে সাদিকের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়; তারপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।”
— কুরআনুল কারিম, সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে:
- মাগরিব (ইফতার) থেকে ফজরের আজান পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর সহবাস বৈধ (হালাল)।
- ফজরের সময় শুরু হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত (মাগরিব) পর্যন্ত সহবাস নিষিদ্ধ (হারাম)—কারণ তখন রোজা চলমান।.
হাদিসের আলোকে
এক ব্যক্তি নবীজি ﷺ-এর কাছে এসে বললেন যে তিনি রমজানে দিনে স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) আদায়ের নির্দেশ দেন:
- একটি দাস মুক্ত করা;
- তা না পারলে টানা দুই মাস রোজা রাখা;
- তাও না পারলে ষাটজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান।
— সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
এ থেকে বোঝা যায়, ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা অবস্থায় সহবাস করলে বড় গুনাহ এবং এর জন্য কঠোর কাফফারা রয়েছে।
কখন সহবাস করা যাবে?
রমজানে সহবাস করার বৈধ সময়:
মাগরিবের আজানের পর (ইফতারের পর)
এশা ও তারাবির পর থেকে
ফজরের আজানের আগে পর্যন্ত
তবে খেয়াল রাখতে হবে, ফজরের আগে গোসল করে পবিত্র হওয়া উত্তম, যদিও গোসল ফজরের পর করলেও রোজা সহীহ থাকে (যদি সহবাস ফজরের আগে হয়ে থাকে)।.
যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি
- রোজা অবস্থায় (ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত) সহবাস করা যাবে না।
- ইচ্ছাকৃতভাবে করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারা ও কাজা—উভয়ই আদায় করতে হবে।
- সহবাস ছাড়া দাম্পত্য স্নেহ-ভালোবাসা (যদি সহবাসে গড়ায় না) সম্পর্কে আলেমদের ভিন্ন মত থাকলেও, আত্মসংযম অবলম্বন করাই উত্তম।
আধ্যাত্মিক দিক
রমজান কেবল খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি নফসকে নিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সময়। তাই বৈধ সময়েও অতিরিক্ত ভোগে লিপ্ত না হয়ে ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় মনোযোগী হওয়া উত্তম।
সংক্ষেপে
সময় | সহবাসের বিধান |
মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত | হালাল |
ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত | হারাম |
আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের সঠিক মর্যাদা রক্ষা করে জীবনযাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
